চট্টগ্রাম নিউজ: শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর হাই কোর্টের আদেশে গাজীপুর কিশোর সংশোধানাগার থেকে গত বুধবার মুক্তি পায় ওই কিশোর (১৪)।
পরিবারের অভিযোগ, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী তার প্রতিবেশী শাহ আলমের (৫৫) বাড়ির গৃহকর্মী হিসেবে কাজের সময় একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়।
পরে শাহ আলমের পরিবারের পরামর্শে গত মে মাসে রাঙ্গুনিয়ার মরিয়ম নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়।
এ ঘটনায় গত ৮ মে শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন কিশোরীর মা। ওই রাতেই পুলিশ শাহ আলমকে আটক করে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরদিন ওই কিশোরীর ভাইকে আটক করা হয়।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ওই কিশোর বলে, “আমি থানায় গিয়েছিলাম মা-বাবাকে দেখতে। আমাকে বলে, তুমি থানায় বস। তোমার মাকে ছেড়ে দেব। তারপর ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
“এসআই মজিবুর রহমান আমাকে ইলেকট্রিক শক দেয়। আমার বাবা-মাকে মেরে ফেলবে হুমকি দিয়ে জোর করে কাগজে সই নেয়।”
কাঁদতে কাঁদতে ওই কিশোর বলে, “নিজের বোনকে কেউ কি ধর্ষণ করতে পারে?”
এসময় তার মা ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করলে ধর্ষণের শিকার মেয়েও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে ওই কিশোর আরও বলে, “আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মা’র কাছ থেকে সেই নেয়। গরিব বলে কি আমি বিচার পাব না?”
সংবাদ সম্মেলনে তার পরিবার পুরো ঘটনার জন্য রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মজিবুর রহমান, ওসি হুমায়ুন কবির, উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ এবং অভিযুক্ত শাহ আলমের ভাগিনা সালাউদ্দিনকে দায়ী করে।
গত ২৫ মে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন কিশোরীর মা।
এ ঘটনা নিয়ে এক রিট আবেদনে গত সোমবার শাহ আলমকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
একদিন পরই নগরীর আন্দরকিল্লা থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
