Sunday, December 6, 2015

ভোট কতোটা নিরপেক্ষ হবে, স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে: ফখরুল

story image

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসন্ন পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “আমাদের নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকে যে ভূমিকা পালন করছে, তা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নয়। তাদের ভুমিকা পুরোপুরিভাবে দলীয় ভূমিকায় পরিণত হয়েছে।

“সেক্ষেত্রে পৌর নির্বাচন কতোটা নিরপেক্ষ হবে, কতোটা অবাধ হবে- এটা খুব স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

কারামুক্তির পাঁচ দিন পর রোববার নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে নিজের কক্ষে বসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল।

বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে এলে নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। উচ্চ আদালতের জামিনে গত মঙ্গলবার কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

ফখরুল বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটু চেষ্টা করলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর সময়ে তারা কিন্তু নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। এখন যে নির্বাচন কমিশন দেখছি, জাতীয় নিবার্চন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে নিরপেক্ষতার চিহ্নমাত্র আমরা পাইনি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে ‘যথেষ্ট সময় না দিয়ে’ নির্বাচনের বিধি তৈরি করায় সব দলের পক্ষে ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

“এটা আবারো প্রমাণ করেছে যে তারা (নির্বাচন কমিশন) দলীয় নির্দেশ পালন করেছে।”

Fakhrul-1.jpgবিএনপির পৌর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ফখরুল বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক। বিএনপি একটি উদার রাজনৈতিক দল। সেজন্য সরকার পরির্তনের যে বিষয়টা আছে, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ আছে।”

পৌর নির্বাচনে বিএনপি কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে– এমন প্রশ্নে দলের মুখপাত্র বলেন, “সারা দেশে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে, মামলা হচ্ছে। আজও পত্রিকায় এসেছে, প্রার্থীসহ গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা এ রকম প্রতিকূলতার মধ্যে নির্বাচনে এসেছি, শুধুমাত্র গণতন্ত্রের স্বার্থে, যাতে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজগুলো করতে পারি।”

সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হলে, সমর্থকরা ভোট ‘দিতে পারলে’ বিএনপি পৌর নির্বাচনে ‘ভালো করবে’ বলে আশা প্রকাশ করেন ফখরুল।

নব্বইয়ের গণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের দিন ৬ ডিসেম্বরের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ একটি বিশেষ দিন… আমরা স্মরণ করতে চাই সেইসব শহীদদের, যারা নব্বইয়ের আগে ও পরে গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন।”

নূর হোসেনসহ সেই শহীদেরা যে গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই গণতন্ত্র এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

“এখন মানুষের অধিকার নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। কথা বলার অধিকার নেই। এই দিনে আমাদের প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ যে সংগ্রাম করেছে, তা অব্যাহত থাকবে।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, আসাদুজ্জামান রিপন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম ও শিরিন সুলতানা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মূলপাতা

আন্তর্জাতিক

এক্সক্লুসিভ